কার্ল মার্ক্স - উইকিপিডিয়া
বিষয়বস্তুতে চলুন
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স
কার্ল মার্ক্স
জন্ম
৫ মে
১৮১৮
ট্রায়ার,
প্রুশিয়া
মৃত্যু
মার্চ ১৪, ১৮৮৩
(1883-03-14)
(বয়স
৬৪)
লন্ডন
যুক্তরাজ্য
দাম্পত্য সঙ্গী
জেনি ফন ভেস্টফালেন
সন্তান
যুগ
ঊনবিংশ শতকের দর্শন
অঞ্চল
পাশ্চাত্য দর্শন
ধারা
মার্কসবাদ
প্রধান আগ্রহ
রাজনীতি
অর্থনীতি
শ্রেণি সংগ্রাম
উল্লেখযোগ্য অবদান
মার্কসবাদ
-এর যৌথ প্রবক্তা (এঙ্গেলসের সাথে),
বিচ্ছিন্নতা
ও শ্রমিকের ব্যাখ্যা,
কমিউনিস্ট ইস্তেহার
ডাস কাপিটাল
ঐতিহাসিক বস্তুবাদ
ভাবগুরু
কান্ট
এপিকুরোস
হেগেল
ফয়েরবাক
স্টির্নার
স্মিথ
রিকার্ডো
রুসো
গোটে
ফুরিয়ে
কোঁত
ভাবশিষ্য
লেনিন
স্টালিন
মাও
ক্যাস্ট্রো
শিবদাস ঘোষ
মিখাইল বাকুনিন
লুক্সেমবুর্গ
ট্রট্‌স্কি
গুয়েভারা
লুকাস
গ্রামস্কি
আরেন্ডট
সার্ত্র্‌
ডেবোর্ড
ফ্রাঙ্কফুর্ট বিদ্যালয়
নেগরি
তাওসিং
কিম
মানবেন্দ্রনাথ রায়
শিবদাস ঘোষ
বুকচিন
and
আরও...
কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স
জার্মান
Karl Heinrich Marx
জার্মান উচ্চারণ:
[kaːɐ̯l
ˈhaɪnʀɪç
ˈmaːɐ̯ks
) (৫ মে, ১৮১৮ – ১৪ মার্চ, ১৮৮৩) একজন
জার্মান
দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজ বিজ্ঞানী, রাজনৈতিক তাত্ত্বিক, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী।
সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন মার্ক্স।
মার্ক্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলোর মাঝে রয়েছে তিন খণ্ডে রচিত
পুঁজি
এবং
ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের
সাথে যৌথভাবে রচিত
কমিউনিস্ট ইশতেহার
(১৮৪৮)।
সমাজ, অর্থনীতি, ও রাজনীতি সংক্রান্ত মার্ক্সের তত্ত্ব সমূহ
মার্ক্সবাদ
নামে পরিচিত। মার্ক্সের মতে, অদ্যাবধি পৃথিবীর ইতিহাস শ্রেণি সংগ্ৰামের ইতিহাস। শ্রেণি সংগ্রামের ভিতর দিয়ে মানব সমাজগুলো বিকশিত হচ্ছে।
পুঁজিবাদী
ব্যবস্থায় এই সংগ্রামের প্রকাশ ঘটে শাসক শ্রেণি (যারা একইসাথে রাষ্ট্র, ও কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ করে) এবং শ্রমজীবী শ্রেণি (যাদের জীবিকার একমাত্র উপায় পুঁজিপতির কারখানায় ন্যূনতম মজুরির বিনিময়ে শ্রম বেঁচা), তাদের মাঝে।
মার্ক্স বলেন যে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে শ্রমিক শ্রেণি যে পরিমাণ নতুন মূল্যের সৃষ্টি করে তার ভগ্নাংশই মাত্র তারা মজুরি বাবদ পান, উদ্বৃত্ত সিংহভাগ অংশ পুঁজির মালিকগণ আত্মসাৎ করে ফেলেন।
দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
অনুসরণ করে মার্ক্স দাবি করেন যে পূর্বতন সমাজব্যবস্থা গুলোর মতো পুঁজিবাদও তার অন্তঃস্থ বিভেদ ও শ্রেণি সংগ্রামের দরুন ভেঙে পড়বে এবং সমাজতন্ত্রের জন্ম হবে। মার্ক্স মনে করেন, অস্থিতিশীল ও সংকট প্রবণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ক্রমাগত শ্রেণি সংগ্রামের ভিতর দিয়ে মজলুম শ্রমজীবী শ্রেণির মাঝে শ্রেণিচেতনার জন্ম হবে; যার ফলে তাদের মাঝে ঐক্য গড়ে উঠবে এবং এই ঐক্যবদ্ধ শ্রমজীবী শ্রেণি জালেম শাসক শ্রেণিকে ক্ষমতাচ্যুত করে শ্রেণিহীন কওমী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
মার্ক্স মনে করেন, বিদ্যমান পুঁজিবাদী জালেমী ব্যবস্থার অবসান করতে এবং নিজেদের মুক্তির খাতিরে মজলুম শ্রমজীবী শ্রেণি গুলোর ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের বিকল্প নেই।
জীবনী
সম্পাদনা
কার্ল মার্ক্স
প্রুশিয়া সাম্রাজ্যের
নিম্ন রাইন প্রদেশের অন্তর্গত Trier নামক স্থানে এক
ইহুদি
পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের নয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বাবা
হাইনরিশ মার্ক্স
এমন এক বংশের লোক যে বংশের পূর্বপুরুষেরা
রাব্বি
ছিলেন। অবশ্য তাদের মধ্যে
অতিবর্তী ঈশ্বরবাদ
এবং
আলোকময়তার যুগের
প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাদের অনেকেই
ভলতেয়ার
রুশোর
মত দার্শনিকদের প্রশংসা করতেন। জন্মের সময় হাইনরিশ মার্ক্সের নাম ছিল
Herschel Mordechai
, তার বাবার নাম
Levy Mordechai
(১৭৪৩-১৮০৪) এবং মা'র নাম
Eva Lwow
(১৭৫৩-১৮২৩)। ইহুদি পরিবারেই হাইনরিশের জন্ম, কিন্তু ধর্মের কারণে আইন অনুশীলনে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তিনি
ইহুদি ধর্ম
ত্যাগ করে
লুথারীয়
মতবাদে দীক্ষা নেন। লুথারীয় ধর্ম তখন প্রুশীয় সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম ছিল, তাই সেই
রোমান ক্যাথলিক
সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে লুথারীয় সংখ্যালঘু হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা লাভের আশায়ই তিনি এভাবে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন।
কার্ল মার্ক্সের মা'র নাম
Henriette née Pressburg
(১৭৮৮-১৮৬৩)। তিনি শিল্পপতি
Gerard Philips
Anton Philips
এর মাতামহ (আপন নন) এবং Barent-Cohen পরিবারের উত্তরসূরী। Henriette এর বাবার নাম
Isaac Heijmans Presburg
(১৭৪৭-১৮৩২) এবং মা'র নাম
Nanette Salomon Barent-Cohen
(১৭৬৪-১৮৩৩)। Nanette এর বাবা ছিলেন
Salomon David Barent-Cohen
(মৃ. ১৮০৭) এবং মা ছিলেন
Sara Brandes
। এই সালোমোন ও সারা আবার বিবাহ সূত্রে
Nathan Mayer Rothschild
এর স্ত্রীর চাচা-চাচী ছিলেন।
শিক্ষা
সম্পাদনা
কার্ল মার্ক্স ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়িতেই পড়াশোনা করেন। বাল্যপাঠ শেষে Trier Gymnasium এ ভর্তি হন, ১৭ বছর বয়সে সেখান থেকে স্নাতক হন। এরপর
ইউনিভার্সিটি অফ বন
-এ আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তার ইচ্ছা ছিল
সাহিত্য
দর্শন
নিয়ে পড়া, কিন্তু তার বাবা মনে করতেন কার্ল স্কলার হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে না। কিছুদিনের মধ্যেই তার বাবা তাকে বার্লিনের Humboldt-Universität এ বদলি করিয়ে দেন। সে সময় মার্ক্স জীবন নিয়ে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন, তার লেখার ভাষা ছিল বাবার কাছ থেকে পাওয়া ধর্মতাত্ত্বিক তথা অতিবর্তী ঈশ্বরবাদের ভাষা। এ সময়ই
তরুণ হেগেলিয়ানদের
নাস্তিকতাবাদ গ্রহণ করেন। ১৮৪১ সালে
পিএইচডি
ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল "The Difference Between the Democritean and Epicurean Philosophy of Nature" (প্রকৃতি সম্বন্ধে দেমোক্রিতোসীয় ও এপিকুরোসীয় দর্শনের মধ্যে পার্থক্য)। উল্লেখ্য, পিএইচডি অভিসন্দর্ভ তিনি বার্লিনের বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা না দিয়ে
ইউনিভার্সিটি অফ জেনা
-তে জমা দেন। কারণ তরুণ হেগেলিয়ান রেডিক্যাল হওয়ার কারণে বার্লিনে তার ভাবমূর্তি ভাল ছিল না।
তরুণ হেগেলিয়ান মার্ক্স
সম্পাদনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক্স
বার্লিনের বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ভাগ ছিল। তরুণ হেগেলিয়ান, দার্শনিক ছাত্র এবং
লুডউইগ ফয়েরবাক
ব্রুনো বাউয়ার
-কে কেন্দ্র করে গঠিত সাংবাদিক সমাজ ছিল বামপন্থী। আর শিক্ষক সমাজ ছিল
জি ডব্লিউ এফ হেগেল
। এই দুটি ভাগ ছিল পরস্পরবিরোধী। হেগেলের অধিবিদ্যাগত অনুমিতিগুলোর সমালোচনা করলেও বামপন্থীরা প্রতিষ্ঠিত ধর্ম ও রাজনীতির কঠোর সমালোচনার জন্য হেগেলের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিই অনুসরণ করতো।
কিছু তরুণ হেগেলিয়ান এরিস্টটল-উত্তর দর্শনের সাথে হেগেল-উত্তর দর্শনের সাদৃশ্য তুলে ধরেন। যেমন,
মাক্স স্টির্নার
তার
Der Einzige und sein Eigenthum
(১৮৪৪) বইয়ে ফয়ারবাখ ও বাউয়ারের সমালোচনা করেন, বিমূর্ত ধারণাগুলোর দ্ব্যর্থতাবোধক হেত্বাভাস (reification) চর্চার জন্য তাদেরকে
ধার্মিক ব্যক্তি
বলে আখ্যায়িত করেন। মার্ক্স এই বই পড়ে মুগ্ধ হয়ে ফয়ারবাখের বস্তুবাদ ত্যাগ করেন। এই
রূপতাত্ত্বিক বিরতি
(epistemological break)
ঐতিহাসিক বস্তুবাদ
বিষয়ে তার ধারণার ভিত্তি রচনায় যথেষ্ট সাহায্য করে। এই নতুন ধারণার মাধ্যমে তিনি স্টির্নারেরও বিরোধিতা করেন। এ বিষয়ে একটি বইও লিখেন যার নাম
Die Deutsche Ideologie
(১৮৪৫)। অবশ্য ১৯৩২ সালের আগে এই বই প্রকাশিত হয় নি।
প্যারিস ও ব্রাসেল্‌স
সম্পাদনা
১৮৪৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে মার্ক্স
প্যারিসে
আসেন। এ শহর তখন জার্মান, ব্রিটিশ, পোলীয় ও ইতালীয় বিপ্লবীদের সদর দফতর হয়ে উঠেছিল। তিনি প্যারিসে গিয়েছিলেন মূলত জার্মান বিপ্লবী
Arnold Ruge
এর সাথে
Deutsch-Französische Jahrbücher
-এর উপর কাজ করতে। সে সময়
ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
প্যারিসে গিয়েছিলেন মার্ক্সকে ১৮৪৪ সালের বাস্তবতায় ইংল্যান্ডে কর্মজীবী মানুষের অবস্থা অবহিত করতে। এর আগে ১৮৪২ সালে মার্ক্সের সাথে এঙ্গেল্‌সের এ নিয়ে কথা হয়েছিল। সে পরিচয়ের ভিত্তিতেই এঙ্গেল্‌স এ ধরনের উদ্যোগ নেন। এভাবেই ১৮৪৪ সালের
২৮ অক্টোবর
মার্ক্স ও এঙ্গেল্‌স প্যারিসের
Café de la Régence
-তে তাদের বন্ধুত্ব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা ঘটান। এটা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক বন্ধুত্বের একটি।
জার্মান-ফরাসি বার্ষিকী
বা
Deutsch-Französische Jahrbücher
-এর পতন হওয়ার পর মার্ক্স প্যারিসের সবচেয়ে প্রগতিশীল জার্মান পত্রিকায় ("লিগ অফ দ্য জাস্ট" নামক গোপনীয় সমাজ এটা প্রকাশ করতো) একটি প্রবন্ধ লেখেন। এই প্রবন্ধের বিষয় ছিল "ইহুদি প্রশ্ন" এবং
হেগেল
। লেখালেখির বাইরে মার্ক্সের সময় কাটতো
ফরাসি বিপ্লবের
ইতিহাস, Pierre-Joseph Proudhon এর রচনা এবং গ্রাম্য প্রোলেতারিয়াদের কথা পড়ে। এ সময় প্রোলেতারিয়াদের অবস্থা নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ সম্পর্কে উইলিয়াম এইচ সিউয়েল জুনিয়র তার
ওয়ার্ক অ্যান্ড রিভলিউশন ইন ফ্রান্স
গ্রন্থে বলেন,
... মার্ক্সের হঠাৎ করে প্রোলেতারীয় কারণ সম্বন্ধীয় মতবাদের প্রতি সমর্থনের সাথে এর আগে ফ্রান্সের সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সমাজের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা যায়।
মার্ক্স তরুণ হেগেলিয়ানদের সাথে তার সম্পর্কের পূনর্মূল্যায়ন করেন। ১৮৪৩ সালে বাউয়ারের নাস্তিকতার জবাবে রচিত "অন দ্য জিউইশ কোয়েশ্চ্‌ন" এই পুনর্মূল্যায়নেরই অংশ। এ সময়ই আরেকটি প্রবন্ধ লিখেন যার বিষয় ছিল রাজনৈতিক মুক্তি, ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম কীভাবে মানুষের মুক্তির বিরোধিতা করে এবং বেসামরিক ও মানবাধিকার বিষয়ে সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা। প্রত্যয়ী সাম্যবাদী এঙ্গেল্‌স মার্ক্সের অর্থনৈতিক গবেষণাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যান এবং কর্মজীবী শ্রেণির অবস্থার প্রতি তার উৎসাহ সৃষ্টি করেন। এভাবেই মার্ক্স সাম্যবাদী হয়ে উঠেন,
ইকোনমিক অ্যান্ড ফিলোসফিক্যাল মেনুস্ক্রিপ্ট‌্‌স অফ ১৮৪৪
(১৯৩০-এর দশকের আগে প্রকাশিত হয়নি) রচনার মাধ্যমে সাম্যবাদ বিষয়ে তার মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন,
পুঁজিবাদী
সমাজে বিচ্ছিন্ন (এলিয়েনেটেড) কর্মজীবী শ্রেণির বিপরীতে
সাম্যবাদী
সমাজে সম্পৃক্ত (আন-এলিয়েনেটেড) কর্মজীবী শ্রেণির কথা বলেন। তার মতে, এ ধরনের সাম্যবাদী সমাজে সবাই নিজেদের স্বাধীনভাবে গড়ে তুলতে পারে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
১৮৪৫ সালের জানুয়ারিতে যখন
Vorwärts
প্রুশিয়ার রাজা
ফ্রিডরিক উইলিয়াম ৪
-কে হত্যার প্রচেষ্টাকে অনুমোদন দেয় তখন প্যারিস থেকে কার্ল মার্ক্স সহ সব বিপ্লবীকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি এঙ্গেল্‌সের সাথে
ব্রাসেল্‌স
চলে যান। এখানেই ঐতিহাসিক বস্তুবাদকে সম্পূর্ণ করার জন্য ইতিহাস অধ্যয়ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার
দ্য জার্মান আইডিওলজি
-তে (১৮৪৫) বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির স্বভাব-প্রকৃতি তাদের উৎপাদন নির্ধারণকারী বস্তুর শর্তের উপর নির্ভর করে। এর মাধ্যমেই উৎপাদনের নকশা প্রণয়ন করেন এবং শিল্প কেন্দ্রিক পুঁজিবাদের পতন ও তার বদলে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
এর পরই ফরাসি সমাজতন্ত্রের সমালোচনা প্রকাশ করেন যার নাম ছিল
দ্য পোভার্টি অফ ফিলোসফি
(১৮৪৭)। এটা ছিল
Pierre-Joseph Proudhon
রচিত "দ্য ফিলোসফি অফ পোভার্টি"-র (১৮৪৭) প্রত্যুত্তর। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে চিন্তা করলে মার্ক্সের
দ্য জার্মান আইডিওলজি
এবং
দ্য পোভার্টি অফ ফিলোসফি
-ই পরবর্তীকালে প্রকাশিত
দ্য কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর
মূল ভিত্তি। এই ইশতেহার ছিল
কমিউনিস্ট লিগ
-এর মূলনীতি।
প্যারিসে প্রত্যাবর্তন
সম্পাদনা
১৮৪৮ সালে ইউরোপ জুড়ে অনেকগুলি
বিপ্লব সংঘটিত হয়। অনেক কিছুই বদলে যায়। মার্ক্সকে বন্দী করা হয় এবং পরবর্তীতে
বেলজিয়াম
থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরই মধ্যে বিপ্লবীরা ফ্রান্সের রাজা
লুই-ফিলিপ
কে রাজি করিয়ে মার্ক্সকে প্যারিসে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। রাজার আমন্ত্রণেই তিনি প্যারিসে প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময় প্যারিসে
জুন ডেইস আপরাইজিং
নামে পরিচিত বিপ্লবটি সংঘটিত হয় যা মার্ক্স প্রত্যক্ষ করেন।
জার্মানিতে প্রত্যাবর্তন ও পুনরায় নির্বাসন
সম্পাদনা
প্যারিসে জুন ডেইস আপরাইজিং শেষ হওয়ার পর ১৮৪৯ সালে মার্ক্স জার্মানির
Cologne
শহরে ফিরে যান এবং
Neue Rheinische Zeitung
পত্রিকাটি প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই পত্রিকা প্রকাশকালীন সময়েই তাকে দুই বার অভিযুক্ত করা হয়। প্রথম বার ১৮৪৯ সালের
৭ ফেব্রুয়ারি
press mis-demeanour crime
প্রকাশের জন্য এবং পরের বার একই বছরের
৮ ফেব্রুয়ারি
incitement to armed rebellion
প্রকাশের জন্য। দুই বারই তিনি অব্যাহতি পেয়ে যান। কিন্তু এই ধারাবাহিকতায় আরও বাধা আসতে থাকে। একসময় পত্রিকাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং তাকে প্যারিসে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু প্যারিস তাকে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, অগত্যা
লন্ডনে
চলে যান। লন্ডন তাকে ইউরোপ মহাদেশের একজন শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করে।
লন্ডন
সম্পাদনা
১৮৪৯ সালের মে মাসে কার্ল মার্ক্স লন্ডনে যান এবং ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৮৫১ সালে
নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউন
-এর স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন, এতে তার জীবিকা অর্জনেও সুবিধা হয়। ১৮৫৫ সালে মার্ক্স পরিবারের সন্তান
এডগার
যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এসব কারণে কয়েক বছর রাজনৈতিক অর্থনীতির কাজ বেশ ধীরগতিতে চলে। ১৮৫৭ সালে ৮০০ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ করেন। এই ৮০০ পৃষ্ঠায় মূলধন, ল্যান্ডেড প্রোপার্টি, মজুরি শ্রম, রাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব বাজার বিষয়গুলো স্থান পায়। এই পাণ্ডুলিপিটি ১৯৪১ সালে
Grundrisse der Kritik der Politischen Ökonomie
(রাজনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনার সাধারণ পরিচিতি) নামে প্রকাশিত হয়। বইটির সংক্ষিপ্ত নাম ছিল
Grundrisse
। ১৮৫৯ সালে প্রকাশ করেন
কন্ট্রিবিউশন টু দ্য ক্রিটিক অফ পলিটিক্যাল ইকোনমি
যা তার অর্থনীতি বিষয়ক পরিপক্ব প্রকাশনা গুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে বিবেচিত হয়। একইসাথে সংবাদ প্রতিবেদক হিসেবে মার্ক্স
মার্কিন গৃহযুদ্ধের
(১৮৬১-১৯৬৫) ইউনিয়ন কারণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেন।
১৮৬০-এর দশকের প্রথম দিকে মার্ক্স তিনটি খণ্ড রচনা শেষ করেন। প্রথম খণ্ডের নাম
থিওরিস অফ সারপ্লাস ভ্যালু
। এর প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল কয়েকজন রাজনৈতিক অর্থনীতি তাত্ত্বিকদের (বিশেষত
অ্যাডাম স্মিথ
ডেভিড রিকার্ডো
) মতবাদ। সম্পাদক
Karl Kautsky
মার্ক্সের মৃত্যুর পর এটা প্রকাশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হলেও এই খণ্ডকে
ডাস কাপিটাল
-এর "চতুর্থ পুস্তক" হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।
অর্থনৈতিক চিন্তাধারার ইতিহাস
নিয়ে জ্ঞানগর্ভ রচনা গুলোর এটাই প্রথম। ১৮৬৭ সালে তিন খণ্ডে
ডাস কাপিটাল
প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ড ডেভিড রিকার্ডো প্রণীত
মূল্যের শ্রম নীতি
-কে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে এবং সে দৃষ্টিকোণ থেকে
উদ্বৃত্ত মূল্য
নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শ্রমিকদের শোষণকারী পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার বিশ্লেষণ করে। মার্ক্স এতে বলেন, এই উদ্বৃত্ত মূল্য ও শোষণের কারণে একসময় পুঁজিবাদীদের লাভের হার একেবারে কমে যাবে এবং যথারীতি শিল্পকেন্দ্রিক পুঁজিবাদের পতন ঘটবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড মার্ক্সের জীবদ্দশায় পাণ্ডুলিপি পর্যায়েই থেকে যায়, তিনি এ দুটোর আরও উন্নয়ন ঘটান। তার মৃত্যুর পর
এঙ্গেলস
এগুলো সমাপ্ত করেন এবং প্রকাশ করেন।
ডাস কাপিটাল
প্রকাশে একটু দেরি হয়, কারণ মার্ক্স তখন
প্রথম আন্তর্জাতিক
এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ১৮৬৪ সালে মূল জেনারেল কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রথম বার্ষিক সভার প্রস্তুতি গ্রহণ এবং
মিখাইল বাকুনিন
(১৮১৪-১৮৬৭) এর
অ্যানার্কিস্ট
দলের সাথে অন্তর্ঘাতী বিরোধে নেতৃত্ব দানের দায়িত্ব তার উপরই পড়ে। এই বিরোধে তিনি জয়ী হন, কিন্তু ১৮৭২ সালে তারই সমর্থনে জেনারেল কাউন্সিলের সভাস্থল লন্ডন থেকে
নিউ ইয়র্কে
সরিয়ে নেয়ার কারণে ইন্টারন্যাশনালের পতন ত্বরান্বিত হয়। ইন্টারন্যাশনালের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ১৮৭১ সালের
প্যারিস কমিউন
। এই কমিউনের মাধ্যমে প্যারিসের বিপ্লবীরা ফরাসি সরকারের বিরোধিতা করে দুই মাস শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, অবশেষে রক্তাক্ত সংঘর্ষের মাধ্যমে সরকার পুনরায় নেতৃত্ব নিয়ে নেয়। মার্ক্স তার
দ্য সিভিল ওয়ার ইন ফ্রান্স
রচনায় কমিউনকে সমর্থন করেছিলেন।
জীবনের শেষ দশকে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, আগের মত প্রত্যয়ী বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়েন। অবশ্য সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য প্রদান থেকে কখনই বিরত ছিলেন না, বিশেষত জার্মানি ও রাশিয়ার রাজনীতি নিয়ে কথা বলতেন।
Critique of the Gotha Programme
-এ তিনি
Wilhelm Liebknecht
(১৮২৬-১৯০০) এবং
August Bebel
(১৮৪০-১৯১৩) নামক দু'জন জার্মান অনুসারীর প্রবণতার বিরোধিতা করেন। এই দুজন
ফের্দিনান্দ লাসালের
রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের সাথে সমঝোতা করার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজতান্ত্রিক দলের স্বার্থের পক্ষাবলম্বন করেছিল। সে সময় রাশিয়ার
মির
গ্রামে জমির উপর সাধারণ মালিকানা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এসব দেখে মার্ক্স গভীরভাবে প্রত্যাশা করেছিলেন যে, অচিরেই রাশিয়ায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতনের মাধ্যমে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
১৮৮২ সালে
পারিবারিক জীবন
সম্পাদনা
মার্ক্স
জেনি ফন ভেস্টফালেন
-কে বিয়ে করেন। জেনি ছিলেন এক প্রুশীয় ব্যারনের শিক্ষিত কন্যা। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে হয়েছিল, কারণ এই বিয়েতে মার্ক্স পরিবারের সম্মতি ছিল না। ১৮৪৩ সালের
১৯ জুন
Bad Kreuznach-এর Kreuznacher Pauluskirche-এ তাদের বিয়ে হয়।
১৮৫০-এর দশকের প্রথমার্ধে মার্ক্স পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তখন তারা লন্ডনের সোহো'র ডিন স্ট্রিটে একটি তিন রুমের ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকতেন। এরই মধ্যে তাদের চার সন্তানের জন্ম হয়। লন্ডনে বসবাস শুরু করার পর আরও তিন সন্তান হয়। এই সাত জনের মধ্যে কেবল তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে ছিল। মার্ক্সের আয়ের উৎস ছিল কেবল এঙ্গেল্‌সের দেয়া ভর্তুকি ও
নিউ ইয়র্ক ডেইলি ট্রিবিউন
-এর বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে পাওয়া বেতন। জেনি এক কাকা ও মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু অর্থ পান। এই অর্থই মার্ক্স পরিবারকে
কেন্টিশ টাউনের
৯ গ্র্যাফ্টন টেরেস
এ অপেক্ষাকৃত ভালো ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাসা নিতে সাহায্য করে। আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হলেও মার্ক্স তার স্ত্রী ও সন্তানদের বুর্জোয়া সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আবশ্যক সব উপকরণ সরবরাহ করতেন।
জেনির গর্ভে মার্ক্সের যেসব সন্তান হয়েছিল তারা হল:
জেনি ক্যারোলিন
(১৮৪৪-১৮৮৩),
জেনি লরা
(১৮৪৫-১৯১১),
এডগার
(১৯৪৭-১৮৫৫),
হেনরি এডওয়ার্ড গাই
(১৮৪৯-১৮৫০),
জেনি এভেলিন ফ্রান্সেস
(১৮৫১-১৮৫২),
জেনি জুলিয়া এলিনর
(১৮৫৫-১৮৯৮) এবং আরও কয়েকজন যারা নাম রাখার আগেই মারা যায়।
1962 সালে, অভিযোগ ওঠে মার্কস তার পরিচারিকা হেলেন ডেমুথের সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে একটি পুত্রসন্তান
ফ্রেডির জন্ম দেন, কিন্তু নথিভুক্ত প্রমাণের অভাবে এই দাবিটি বিতর্কিত।
হেলেন ডেমুথকেও মূলত আস্থাভাজন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস দ্বারা লিখিত তার মৃত্যুকথায়, তার ভূমিকা এইভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: "মার্কস হেলেনা ডেমুথের পরামর্শ নিয়েছিলেন, কেবল কঠিন এবং জটিল দলীয় বিষয়েই নয়, এমনকি তার অর্থনৈতিক লেখার ক্ষেত্রেও"।
মৃত্যু
সম্পাদনা
লন্ডনের হাইগেট সেমিটারিতে কার্ল মার্ক্সের সমাধি স্তম্ভ
১৮৮১ সালের ডিসেম্বরে জেনি মারা যাওয়ার পর মার্ক্স এক ধরনের catarrh-য় আক্রান্ত হন। এই রোগ তাকে জীবনের শেষ ১৫ মাস অসুস্থ করে রাখে। এই রোগ পরবর্তীতে
ব্রঙ্কাইটিস
ও সব শেষে pleurisy তে পরিণত হয়। এই pleurisy-র কারণেই ১৮৮৩ সালের
১৪ই মার্চ
তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় মার্ক্সের কোন জাতীয়তা তথা দেশ ছিল না, তাকে
১৭ মার্চ
লন্ডনের
হাইগেট সেমিটারি
-তে সমাহিত করা হয়। তার সমাধি ফলকে দুটি বাক্য লেখা আছে। প্রথমে লেখা, কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর শেষ লাইন "
দুনিয়ার মজদুর, এক হও!
" (Workers of all land unite), এরপরে লেখা ১১তম
থিসিস অন ফয়ারবাখ
-এর এঙ্গেলীয় সংস্করণের বিখ্যাত উক্তি, "এতোদিন দার্শনিকেরা কেবল বিশ্বকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যাই করে গেছেন, কিন্তু আসল কাজ হল তা পরিবর্তন করা।" (The philosopher have only interpreted the world in various ways - The point however is to change it)
১৯৫৪ সালে
গ্রেট ব্রিটেনের কমিউনিস্ট পার্টি
কার্ল মার্ক্সের সমাধিতে একটি সৌধ স্থাপন করে যার শীর্ষে আছে মার্ক্সের মুখমণ্ডলের ভাস্কর্য।
লরেন্স ব্র্যাডশ
এই মুখাবয়বটির স্থপতি। প্রকৃত সমাধিটি সমতল।
মার্ক্সের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মাত্র ১১ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এ সম্পর্কে এঙ্গেল্‌স লিখেন,
১৪ মার্চ বিকেল পৌনে তিনটায় জীবিতদের মাঝে সেরা চিন্তাবিদ তার চিন্তার পরিসমাপ্তি ঘটান। মাত্র দুই মিনিটের জন্য আমরা তাকে রেখে বাইরে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে তাকে তার আর্মচেয়ারে বসা অবস্থায় পেলাম, তিনি ততক্ষণে শান্তিতে নিদ্রায় গিয়েছেন- চিরদিনের জন্য
এঙ্গেল্‌স ছাড়া শেষকৃত্যে উপস্থিত অন্যান্যরা হলেন, মেয়ে এলিনর (সমাজবাদী ও বাবার সম্পাদনা সহযোগী), মেয়েদের ফরাসি সমাজবাদী স্বামী
Charles Longuet
Paul Lafargue
, Liebknecht (জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা), Longuet (ফরাসি শ্রমজীবী রাজনীতির বিখ্যাত ব্যক্তি); Friedrich Lessner (১৮৫২ সালে Cologne-এ সাম্যবাদীদের বিচারের পর তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন), G. Lochner (কমিউনিস্ট লিগের অন্যতম প্রবীণ সদস্য), Carl Schorlemmer (ম্যান্‌চেস্টারে রসায়নে অধ্যাপক, রয়েল সোসাইটির সদস্য এবং কমরেড); Ray Lankester, স্যার জন নো এবং লিওনার্ড চার্চ। ফরাসি ও স্পেনীয় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আসা দুটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়, এর সাথে এঙ্গেল্‌স বক্তৃতা দেন, এ-ই ছিল শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা। ১৯৭০ সালে সমাধি ডাকাতেরা ঘরে তৈরি বোমার মাধ্যমে তার কবর ধ্বংস করার ব্যর্থ চেষ্টা করে।
চিন্তা ও দর্শন
সম্পাদনা
সমাজ, অর্থনীতি, ও রাজনীতিসংক্রান্ত মার্ক্সের তত্ত্বসমূহ
মার্ক্সবাদ
নামে পরিচিত। মার্ক্সের ইতিহাস দর্শন
ঐতিহাসিক বস্তুবাদ
বলে পরিচিত।
মার্ক্সের মতে, মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাবের মতো নমনীয় আর কিছু নেই। ‘থিসিস অন ফয়েরবাখ’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভে তিনি লিখেছেন, ‘সামাজিক সম্পর্কগুলোর যূথবদ্ধতাই মনুষ্যচরিত্রের সার।’ তিনি বলেন, ধরা যাক, সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে ফেলার মাধ্যমে আপনি সামাজিক সম্পর্কগুলো পাল্টে দিলেন এবং পুঁজিবাদী ও শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক বিলুপ্ত করে দিলেন; তাহলে দেখা যাবে পুঁজিবাদী সমাজে বেড়ে ওঠা মানুষের চেয়ে এই নতুন সমাজের মানুষ একেবারে আলাদা ধরনের হয়ে উঠেছে।
হেগেলের মতে, মানব চেতনার মুক্তিই ইতিহাসের অভীষ্ট লক্ষ্য। হেগেল মনে করেন, যখন আমরা সবাই উপলব্ধি করতে পারব যে আমরা বিশ্বজনীন মানবসত্তার একেকটি অংশ, তখনই সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। মার্ক্স হেগেলের ‘আদর্শিক’ ব্যাখ্যাটিকে এমন একটি ‘বস্তুগত’ আদর্শে রূপান্তরিত করেছেন, যে আদর্শে আমাদের জাগতিক বস্তুগত অভাব মেটানোর সন্তুষ্টিই ইতিহাসের চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং যে আদর্শে একমাত্র শ্রেণিসংগ্রামকেই মুক্তি অর্জনের পথ মনে করা হয়।
শ্রমিক শ্রেণিই হবে বিশ্বজনীন মুক্তির হাতিয়ার; কারণ এই আদর্শ ব্যক্তিগত সম্পদের ধারণাকে অস্বীকার করে এবং যৌথ মালিকানাভিত্তিক উৎপাদনের পথ দেখিয়ে দেয়। মার্ক্স মনে করতেন, যখন কর্মীরা যৌথ মালিকানাভিত্তিক উৎপাদনে আত্মনিয়োগ করবে, তখন মার্ক্সের ভাষায় ‘সহযোগিতামূলক সম্পদের ঝরনাধারা’ ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ যে গতিতে ছড়ায়, তার চেয়ে অনেক বেশি পর্যাপ্ত আকারে সমাজে প্রবাহিত হবে।
গ্রন্থসমূহ
সম্পাদনা
কার্ল মার্কসের গ্রন্থগুলোর বিশ্লেষণ করা হলে, তার চিন্তা ও তত্ত্বের বিকাশ এবং তার সময়কালীন সমাজের বিশ্লেষণের একটি স্পষ্ট রূপরেখা উঠে আসে। নিচে ১০টি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মাধ্যমে তার তত্ত্বের কিছু মূল ধারণা বিশ্লেষণ করা হলো:
দ্য কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো
(১৮৪৮)
মার্কস ও এঙ্গেলসের যৌথ রচনা, যা সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের জন্য কল্যাণকর অভ্যুত্থানের আহ্বান জানায়। এই গ্রন্থে "ধনী বনাম গরীব" এবং "শ্রমিকের মুক্তি" বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ধারণা। এটি পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনকে উদ্বুদ্ধ করে।
ক্যাপিটাল: ক্রিটিক অফ পলিটিক্যাল ইকোনমি
(১৮৬৭)
এটি মার্কসের প্রধান কাজ, যেখানে পুঁজিবাদী অর্থনীতির গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে। মার্কস ব্যাখ্যা করেন যে কীভাবে পুঁজি বৃদ্ধি পায় এবং শ্রমিকের শোষণ হয়। এই গ্রন্থে তিনি "অতিরিক্ত মূল্য" (surplus value) এবং "অর্থনৈতিক সম্পর্ক" নিয়ে আলোচনা করেন, যা পরবর্তী সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ইকোনোমিক অ্যান্ড ফিলসফিকাল ম্যানুস্ক্রিপ্টস
(১৮৪৪)
তরুণ মার্কসের একধরনের দর্শনীয় কাজ, যেখানে তিনি মানুষের পরিপূর্ণতা ও স্বাধীনতা সম্পর্কে গভীর চিন্তা করেন। এখানে তিনি কাজের শোষণ এবং শ্রমের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।
জার্মান আইডিওলজি
(১৮৪৫-৪৬)
এই গ্রন্থে মার্কস ও এঙ্গেলসের সমাজতান্ত্রিক দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তারা বলেন যে মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতি তার শারীরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত। এটি ঐতিহাসিক matérialism-এর ভিত্তি তৈরি করে।
থিসিস অন ফেউবার্চ
(১৮৪৫)
এই কাজটি মার্কসের জন্য একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা ছিল, যেখানে তিনি হেগেলীয় দর্শনের একটি সমালোচনা করেন এবং যুক্তি দেন যে বাস্তব পরিবর্তন আসতে হবে সমাজের শারীরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে।
ইউরোপিয়ান ফিলোসফি
(১৮৪৪)
মার্কস এখানে ইউরোপীয় দার্শনিকদের সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে হেগেল এবং ফেউবার্চ। তিনি মনে করতেন যে মানুষের বাস্তব পরিবর্তনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
ক্যাপিটাল: ভলিউম ২
(১৮৮৫) এবং
ক্যাপিটাল: ভলিউম ৩
(১৮৯৪)
ক্যাপিটাল-এর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ভলিউম পুঁজির উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং তার বিস্তারকে বিশ্লেষণ করে। মার্কসের তত্ত্বে, এটি বর্ণনা করে কীভাবে পুঁজি কেন্দ্রীক এবং শোষণমূলক ব্যবস্থার মধ্যে সংযুক্ত থাকে।
গোথা প্রোগ্রাম
(১৮৭৫)
এটি প্রাথমিকভাবে জার্মান সমাজতান্ত্রিক দলের জন্য তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মার্কস তার বিশ্লেষণ করে দেখান যে এটি কতটা অক্ষম এবং তা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য যথাযথ নয়।
নোটস অন ম্যানুস্ক্রিপ্টস
(১৮৪৪)
মার্কস শ্রমিকদের শোষণ এবং আধুনিক সমাজের অসমতা নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা এবং তার মনস্তাত্ত্বিক উন্নতির ধারণাও উঠে আসে।
ক্যাপিটাল: প্রেইক্টর অফ দি পলিটিক্যাল ইকোনমি
(১৮৫৯)
এই গ্রন্থে তিনি প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের ভিত্তির দিকে নজর দেন, যা পরে ক্যাপিটাল সিরিজের জন্য ভিত্তি তৈরি করে।
মার্কসের কাজের মূল বিষয়বস্তু ছিল পুঁজিবাদী সমাজের ভাঙচুর এবং তার পরিবর্তে একটি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। তিনি তার বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে সম্পর্ক এবং পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও তত্ত্ব আজও বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য প্রভাবশালী এবং তার কর্ম আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস এবং দার্শনিক চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তথ্যসূত্র
সম্পাদনা
Karl Marx:
Critique of the Gotha Program
(Marx/Engels Selected Works, Volume Three, pp. 13–30;)
In
Letter from Karl Marx to Joseph Weydemeyer
(MECW Volume 39, p. 58; )
"BBC News | World | Marx the millennium's 'greatest thinker'
news.bbc.co.uk
। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
"Manifesto of the Communist Party"
www.marxists.org
। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
খান, সলিমুল্লাহ
"কার্ল মার্কসের আবিষ্কার"
বণিক বার্তা
। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ
"Critique of the Gotha Programme"
www.marxists.org
। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
Montefiore, Simon Sebag
(২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১)।
"The Means of Reproduction"
The New York Times
। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে
আর্কাইভকৃত
। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১
"Helene Demuth Obituary"
www.marxists.org
। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২৪
Singer, Peter (১ মে ২০১৮)।
"Is Marx Still Relevant? | by Peter Singer"
Project Syndicate
(ইংরেজি ভাষায়)
। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
বহিঃসংযোগ
সম্পাদনা
উইকিমিডিয়া কমন্সে
কার্ল মার্ক্স
সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।
ইন্টারনেট আর্কাইভে
কার্ল মার্ক্স কর্তৃক কাজ বা সম্পর্কে তথ্য
গুটেনবের্গ প্রকল্পে
কার্ল মার্ক্স-এর সাহিত্যকর্ম ও রচনাবলী
(ইংরেজি)
মার্কসিস্ট বাংলা ইন্টারনেট আর্কাইভ
ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে
কার্ল মার্ক্স
(ইংরেজি)
দে
সমাজতন্ত্র
ইতিহাস
রূপরেখা
চিন্তাগোষ্ঠী
21st century
Agrarian
Communist
Democratic
Ethical
Feminist
Green
Guild
Labourism
Syndicalism
Liberal
Market
Marxian
Nationalist
Reformist
Revolutionary
Scientific
Social democracy
Utopian
Fourierism
Icarianism
Owenism
Saint-Simonianism
বিশেষজ্ঞতন্ত্র
মুক্তিবাদী
নিচ থেকে
Anarchism
Collectivist
Communist
Free-market
Left-wing laissez-faire
Left-wing market
Green
Individualist
Insurrectionary
Magonism
Mutualism
Neozapatismo
Participism
Platformism
Communalism
Social
Syndicalist
Left-libertarianism
Libertarian Marxism
Left communism
Council communism
Luxemburgism
Mao-Spontex
Third camp
কতৃত্ববাদী
উপর থেকে
Barracks
Nechayevism
Blanquism
Bolshevism
Leninism
Marxism–Leninism
Brezhnevism
Castroism
Ceaușism
Guevarism
Ho Chi Minh Thought
Hoxhaism
Husakism
Juche
(originally)
Kadarism
Khrushchevism
Maoism
Dengism
Maoism–Third Worldism
Marxism–Leninism–Maoism
Marxism–Leninism–Maoism–Gonzalo Thought
Marxism–Leninism–Maoism–Prachanda Path
Xi Jinping Thought
Stalinism
Neo-Stalinism
Tkachevism
Trotskyism
Neo-Trotskyism
Pabloism
Posadism
Orthodox Trotskyism
State
Lassallism
ধর্মীয়
Buddhist
Christian
Christian communism
Islamic
Jewish
আঞ্চলিক প্রকারভেদ
African
African-Caribbean
Arab
Bolivarian
Chinese
Communist
Nationalist
European
Eurocommunism
Indian
Israeli
Indonesian
Melanesian
Mexican
Soviet
In one country
Real
Sri Lankan
Third World
Yugoslav
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও প্রশ্ন
Anarchist economics
Anti-revisionism
Criticism of capitalism
Criticism of socialism
Critique of political economy
Critique of work
Class struggle
Democracy
Dictatorship of the proletariat
Egalitarianism
Equal liberty
Equality of opportunity
Equality of outcome
History of anarchism
History of communism
History of socialism
Impossibilism
The Internationale
Internationalism
State-owned enterprise
Land reform
Left-wing politics
Mixed economy
Mode of production
Nanosocialism
Nationalization
Planned economy
Post-capitalism
Proletarian revolution
Reformism
Revisionism
Socialisation of production
Socialist economics
Socialist market economy
Socialist state
State capitalism
Trade union
Welfare state
ধারণা
Adhocracy
Anarchist economics
Basic income
Calculation in kind
Commune
Common ownership
Cooperative ownership
Decentralized planning
Direct democracy
Economic democracy
Economic planning
Equal opportunity
Free association
Industrial democracy
Labor-time calculation
Labour voucher
Organizational self-management
Production for use
Public ownership
Social dividend
Socialist mode of production
বিশেষজ্ঞতন্ত্র
Workplace democracy
ব্যক্তি
১৬শ শতাব্দী
Tommaso Campanella
Thomas More
১৮শ শতাব্দী
Gracchus Babeuf
Victor d'Hupay
Gabriel Bonnot de Mably
Sylvain Maréchal
Étienne-Gabriel Morelly
১৯শ শতাব্দী
Stephen Pearl Andrews
Mikhail Bakunin
John Goodwyn Barmby
Enrico Barone
August Bebel
Edward Bellamy
Eduard Bernstein
Louis Blanc
Louis Auguste Blanqui
Philippe Buchez
Georg Büchner
Philippe Buonarroti
Étienne Cabet
Edward Carpenter
Nikolay Chernyshevsky
James Connolly
Victor Prosper Considerant
Claire Démar
Théodore Dézamy
W. E. B. Du Bois
Prosper Enfantin
Friedrich Engels
Charles Fourier
Emma Goldman
William Batchelder Greene
Charles Hall
Alexander Herzen
Thomas Hodgskin
Jean Jaurès
Mother Jones
Karl Kautsky
Peter Kropotkin
Paul Lafargue
Albert Laponneraye
Ferdinand Lassalle
Pyotr Lavrov
Alexandre Ledru-Rollin
Pierre Leroux
Helen Macfarlane
Errico Malatesta
Karl Marx
Louise Michel
Nikolay Mikhaylovsky
William Morris
Robert Owen
Antonie Pannekoek
Giovanni Pascoli
Constantin Pecqueur
Georgi Plekhanov
Pierre-Joseph Proudhon
Luis Emilio Recabarren
Henri de Saint-Simon
Mikhail Saltykov-Shchedrin
George Sand
Friedrich Wilhelm Schulz
Eugène Sue
Lysander Spooner
Fred M. Taylor
William Thompson
Pyotr Tkachev
Benjamin Tucker
Suzanne Voilquin
Alfred Russel Wallace
Josiah Warren
Wilhelm Weitling
Oscar Wilde
২০শ শতাব্দী
ইয়োজেফ শুম্পেটার
Tariq Ali
Salvador Allende
Louis Aragon
Clement Attlee
Henri Barbusse
Zygmunt Bauman
Simone de Beauvoir
Walter Benjamin
Tony Benn
Léon Blum
Grace Lee Boggs
Murray Bookchin
Bertolt Brecht
Aristide Briand
Nikolai Bukharin
Cornelius Castoriadis
Hugo Chávez
Noam Chomsky
G. D. H. Cole
Jeremy Corbyn
Bob Crow
Guy Debord
Eugene V. Debs
John Dewey
Alexander Dubček
Albert Einstein
Einar Gerhardsen
Mikhail Gorbachev
Maxim Gorky
Antonio Gramsci
Chris Hedges
Eric Hobsbawm
Dolores Ibárruri
Pablo Iglesias Posse
Elfriede Jelinek
Martin Luther King Jr.
Alexandra Kollontai
James Larkin
Jack Layton
Henri Lefebvre
Claude Lefort
Vladimir Lenin
Ken Livingstone
György Lukács
Rosa Luxemburg
Nestor Makhno
Nelson Mandela
Mao Dun
Vladimir Mayakovsky
Maurice Merleau-Ponty
China Miéville
François Mitterrand
Evo Morales
Imre Nagy
Gamal Abdel Nasser
Otto Neurath
Paul Nizan
Abdullah Öcalan
Seán O'Casey
George Orwell
Sylvia Pankhurst
Fred Paterson
Pier Paolo Pasolini
Karl Polanyi
Bertrand Russell
Gaetano Salvemini
Bernie Sanders
Jean-Paul Sartre
Arthur Scargill
Léopold Sédar Senghor
George Bernard Shaw
R. H. Tawney
E. P. Thompson
Ernst Toller
Leon Trotsky
Yanis Varoufakis
H. G. Wells
Cornel West
Richard D. Wolff
Clara Zetkin
Howard Zinn
Slavoj Žižek
সংস্থা-সংগঠন
International (
International socialist organisations
National (
Socialist parties
বিবিধ
Anarchism
Criticism of socialism
Communism
Economic calculation problem
Marxist philosophy
New Left
Old Left
Socialist calculation debate
Critique of political economy
Critique of work
বিষয়শ্রেণী
Socialism WikiProject
সাম্যবাদ
প্রবেশদ্বার
দে
সামাজিক
এবং
রাজনৈতিক
দর্শন
দার্শনিক
আল-গাজ্জালি
এরিস্টটল
অরবিন্দ
ইবনে রুশদ
আউগুস্তিনুস
আকুইনাস
আসুরমেন্দি
বাদিওঁ
বাকুনিন
বদ্রিয়ার
বনওয়া
বেন্থাম
বার্লিন
বোনাল
বোজানকেট
বার্ক
কামু
চাণক্য
কিকেরো
চম্‌স্কি
কোঁত
কনফুসিয়াস
দিবোঁ
জিলাস
দ্যুর্কাইম
এঙ্গেলস
ফুকো
ফুরিয়েঁ
গান্ধী
আর্নল্ড গেহেলেন
জিওভানি জেন্টিল
আন্তোনিও গ্রামসি i
গ্রোশিয়াস
জার্গেন হ্যাবারমাস
হান ফেই
হব্‌স
হিউম
কান্ট
কার্ক
ক্রপটকিন
ল্য বোঁ
লাইব‌নিৎস
লি প্লে
লক
লুক্সেমবুর্গ
মাকিয়াভেল্লি
জোসেফ ডি মাস্ত্রে
নিকোলাস মালেব্রঞ্চ
হার্বার্ট মার্কুসে
জ্যাক মারিতেইন
পদুয়ার মার্সিলিয়াস
মার্কস
মেনসিয়াস
রবার্ট মিশেল
মিল
মন্টেস্কিউ
জাস্টাস মোসার
মোজি
মুহাম্মাদ
আন্তোনিও নেগ্রি
নিৎশে
নজিক (রবার্ট নজিক)
ওকশেট (মাইকেল ওকশেট)
ওর্তেগা
পারেতো
প্লেমেনেটজ
প্লেটো
পপার
র‍্যান্ড
রল্‌স
রেনান
রুসো
রয়েস
রাসেল
সান্তায়ানা
সরকার
সার্ত্র
স্মিট
সার্ল
শাং
জোমবার্ট
ওথমার স্প্যান
স্পেন্সার
স্মিথ
স্পিরিতো
স্টার্নার
স্ট্রাউস
টেন
টেইলর
থরো
বৈশেষিক
বিবেকানন্দ
ওয়ালজার
জিজেক
সামাজিক তত্ত্ব
নৈরাজ্যবাদ
কর্তৃত্ববাদ
সমবায়বাদ
সাম্যবাদ
সংঘাত তত্ত্বসমূহ
কনফুসীয় ধর্ম
রক্ষণশীলতাবাদ
ঐকমত্য তত্ত্ব
চুক্তিতত্ত্ব
অসাম্প্রদায়িকতাবাদ
গান্ধীবাদ
ফ্যাসিবাদ
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
ইসলামের রাজনৈতিক দিক
ইসলামবাদ
আইনবাদ
উদারনীতিবাদ
স্বাধীনতাবাদ
মহিবাদ
জাতীয় উদারনীতিবাদ
সামাজিক গঠনবাদ
সামাজিক নির্মিতিবাদ
সামাজিক ডারউইনবাদ
সামাজিক নিমিত্তবাদ
সমাজতন্ত্র
উপযোগবাদ
সামাজিক ধারণা
আইন অমান্য
গণতন্ত্র
ন্যায়বিচার
আইন
শান্তি
বিপ্লব
অধিকার
সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব
সমাজ
যুদ্ধ
সম্পর্কিত নিবন্ধ
অর্থনীতির দর্শন
আইনতত্ত্ব
ইতিহাসের দর্শন
প্রণয়ের দর্শন
শিক্ষার দর্শন
সামাজিক জ্ঞানতত্ত্ব
সামাজিক বিজ্ঞানের দর্শন
বিষয়শ্রেণী
' থেকে আনীত
বিষয়শ্রেণীসমূহ
কার্ল মার্কস
১৮১৮-এ জন্ম
১৮৮৩-এ মৃত্যু
১৯শ শতাব্দীর জার্মান ইতিহাসবিদ
১৯শ শতাব্দীর জার্মান সাংবাদিক
১৯শ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক
১৯শ শতাব্দীর জার্মান সমাজবিজ্ঞানী
১৯শ শতাব্দীর নাস্তিক
ভোক্তাবাদবিরোধী
বিশ্বায়নবিরোধী কর্মী
জাতীয়তাবাদবিরোধী
নাস্তিক দার্শনিক
হাইগেট সমাধিস্থলে সমাহিত ব্যক্তি
সংঘাত তত্ত্ব
ইহুদিবাদের সমালোচক
রাজনৈতিক অর্থনীতির সমালোচক
ধর্মের সমালোচক
কর্ম ও কর্মনৈতিকতার সমালোচক
ব্রংকাইটিসে মৃত্যু
জ্ঞানতত্ত্ববিদ
ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী
ইউরোপীয় সমাজ গণতন্ত্রী
রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টসের সভ্য
জার্মান পুঁজিবাদবিরোধী
জার্মান সাম্রাজ্যবাদবিরোধী
জার্মান দারিদ্র্যবিরোধী কর্মী
জার্মান নাস্তিকতা আন্দোলনকারী
নাস্তিকতা বিষয়ক জার্মান লেখক
জার্মান কমিউনিস্ট লেখক
ইংল্যান্ডে জার্মান অভিবাসী
বেলজিয়ামে জার্মান প্রবাসী
ইংল্যান্ডে জার্মান প্রবাসী
ফ্রান্সে জার্মান প্রবাসী
জার্মান পুরুষ সাংবাদিক
জার্মান মার্কসবাদী ইতিহাসবিদ
জার্মান মার্কসবাদী লেখক
জার্মান মার্ক্সবাদী
জার্মান মতামতধর্মী সাংবাদিক
ওলন্দাজ-ইহুদি বংশোদ্ভূত জার্মান ব্যক্তি
জার্মান রাজনৈতিক দার্শনিক
জার্মান বিপ্লবী
জার্মান সমাজতান্ত্রিক নারীবাদী
জার্মান সমাজতন্ত্রী
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী
জার্মান করপ্রতিরোধকারী
অর্থনৈতিক চিন্তার ইতিহাসবিদ
সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাস
হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় অব বার্লিনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ইহুদি নাস্তিক
ইহুদি কমিউনিস্ট
ইহুদি ইতিহাসবিদ
ইহুদি দার্শনিক
ইহুদি সমাজবিজ্ঞানী
ইহুদি সমাজতন্ত্রী
ইহুদি জার্মান সাংবাদিক
ব্রাসেলসের সাংবাদিক
লন্ডনের সাংবাদিক
প্যারিসের সাংবাদিক
মার্কসীয় অর্থনীতিবিদ
মার্ক্সবাদী সাংবাদিক
মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক
পদার্থবাদী
অধিবিদ্যাবিদ
অস্তিত্বতত্ত্ববিদ
সংস্কৃতির দার্শনিক
অর্থনীতির দার্শনিক
শিক্ষাদর্শনের দার্শনিক
ইতিহাসের দার্শনিক
জার্মান আইনদর্শনের দার্শনিক
জার্মান মনদর্শনের দার্শনিক
ধর্মের দার্শনিক
বিজ্ঞানের দার্শনিক
প্রযুক্তির দার্শনিক
দার্শনিক নৃতত্ত্ব
বিপ্লব তাত্ত্বিক
সামাজিক দার্শনিক
সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিবিদ
সমাজতান্ত্রিক নারীবাদী
রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি
পাশ্চাত্য সভ্যতা বিষয়ক তাত্ত্বিক
বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ইয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ভিক্টোরীয় যুগের লেখক
সামাজিক পরিবর্তন ও আন্দোলন বিষয়ক লেখক
বিশ্বায়ন বিষয়ক লেখক
ধর্ম ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক
কোলোনের লেখক
সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারের লেখক
আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতির সদস্য
হেগেল গবেষক
১৯শ শতাব্দীর প্রুশিয়া রাজ্যের ব্যক্তি
নারীবাদী পুরুষ
প্রাক্তন লুথারান
লুকানো বিষয়শ্রেণী:
টেমপ্লেট আহ্বানে সদৃশ আর্গুমেন্ট ব্যবহার করা পাতা
এইচকার্ডের সাথে নিবন্ধসমূহ
অজানা প্যারামিটারসহ তথ্যছক দার্শনিক ব্যবহার করা পাতা
জার্মান ভাষার লেখা থাকা নিবন্ধ
সরল আধ্ববসহ পাতা
অকার্যকর বহিঃসংযোগ সহ সমস্ত নিবন্ধ
স্থায়ীভাবে অকার্যকর বহিঃসংযোগসহ নিবন্ধ
উদ্ধৃতি শৈলীতে ইংরেজি ভাষার উৎস (en)
ইন্টারনেট আর্কাইভ সংযোগ সহ নিবন্ধ
গুটেনবের্গ প্রকল্পের সংযোগসহ নিবন্ধ
ইংরেজি ভাষার বহিঃসংযোগ থাকা নিবন্ধ
লাল সংযোগযুক্ত প্রবেশদ্বারসহ প্রবেশদ্বার টেমপ্লেট
খালি প্রবেশদ্বার টেমপ্লেটসহ পাতা
কার্ল মার্ক্স
আলোচনা যোগ করুন